লেখক:-
এ এস আই আবুল কালাম আজাদ
সোনারগাঁ থানা

আমি বাবা বলেই  আমার জীবনে কোন সখ বা ইচ্ছে নেই......সব  সুখ, শান্তি ও ইচ্ছে ওদের জন্য..............


আমি ছো্ট্ট বেলায় আমার আদরের বাবার হাত ধরে হাট-বাজার ও দোকানে যেতাম। বাবার পকেটে টাকা আছে কি নাই তা না বুঝেই বলতাম বাবা এটা লাগবে ওটা লাগবে, এটা কিনে দাও ওটা কিনে দাও। তখন বাবা আমার সখের দিকে তাকিয়ে এটা ওটা সবটাই কিনে দেওয়ার চেষ্টা করতো। তাই কখনো কখনো বাবাকে দেখেছি বাবা আমার জন্য কেনা-কাটা করেই বাড়ীতে ফিরেছে। তখন এতটা বুঝিনি বাবা তো বাজারে এক কাপ চাও খায় নি। হয়তো বাবা আমার জন্য কেনা-কাটা করতে গিয়ে তার পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে ছিল বিধায় বাড়ী ফিরেছে আমার সখটাই পুরন করে।অনেক সময় ‘মা’ একটু অসুস্থ্য হলে বাবা আমার  পাগল হয়ে যেতো ডাক্টার খানায় এখানে ওখানে নিয়ে ’মা” কে সুস্থ্য করে তোলার জন্য। কিন্তু সেই বাবার শরীল প্রচন্ত জ্বলে পুড়ে গেলেও বাবা সহজে ডাক্টারের কাছে যেতে চাই তো না এবং সহজেই কাজ  করাও বন্ধ করতে চাই তো না। যদি বাবা কে বলতা বাবা তোমার তো অনেক জ্বর একটু ডাক্টার কে দেখাও। তাহলে বাবা মুচকি হাসি দিয়ে বলতো আরে খোকা আমার তো কিছু হয়নি শুধু শুধু ডাক্টার কে টাকা দিয়ে কি লাভ হবে। আমি তখন বাবা কে বলতাম বাবা তুমি এমন কেন? উত্তরে বাবা শুধু একটুকু বলতো বাবারা এমনি হয়। সময়ের পরিবর্তনে আজ আমিও বাবা হয়েছি......বাস্তবতার সাথে আমিও যুদ্ধ করে দেখলাম আসলেই একজন   বাবার জম্ম শুধু দেওয়ার জন্য কিছু নেওয়ার জন্য নয়। আমার জীবনের বাস্তবতা থেকেই বলছি.....বিয়ের আগে দায়িত্বটা একটু কম ছিল। কিন্তু বিয়েরর পর দায়িত্বর বোঝাটা মাথায় চেপে বসলো। এরি মাঝে এক ছেলে এক মেয়েরও আমি বাবা হয়েছি। সংসারের সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যয়ের পরিমান বেড়েছে। মাথায় সব সময় সংসারের চিন্তায় অস্থির ছেলে মেয়ের ভবিষৎতের কথা ভেবে ভেবে। তাই পরিশ্রম টাও এখন একটু বেশী করতে হয় কারন পরিশ্রম না করলে সংসার চলবে কি ভাবে। কিন্তু যাদের জন্য দিনকে দিন মনের করি না, রাত কে রাত মনে করি না সেই স্ত্রী-সন্তানরাও অনেক সময় ভুল বুঝে। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততার কারনে গভীর রাতে বাড়ীতে ফিরলে স্ত্রী তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বাসার দরজাটাও খুলে দিতে চায় না। ফিস ফিস করে আবোল তাবোল বলতে শুরু করে, পৃথিবীতে আর কোন পুরুষ নেই, ওনিই একজন মানুষ। তখন স্ত্রীকে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করি কাজের ব্যস্ততার জন্য আসতে পারিনি রাগ কর না লক্ষী। কিন্তু আমার স্ত্রী বাসায় নিশ্চিন্তে ঘুমালো আগামী দিন ঘুমাবে কোন চিন্তা নেই তবুও তার কত কথা। প্রতি বছরে ঈদ আসে নববর্ষ আসে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন সবাই কি ভাবে নতুন সাজে সাজবে সবার ইচ্ছে কি ভাবে পূরণ করবো সেটা ঈদের ২০/২৫ দিন আগ থেকেই মাথায় ঘোরপাক খায়। আমার স্ত্রী ঈদের আগে থেকেই বলতে শুরু করলো এবার ঈদে কিন্তু আমাকে ভাল শাড়ি এবং আধুনিক মানের কসমেটিক দিতে হবে। আর তোমার ছেলে মেয়েদের জন্য কিন্তু দুই সেট করে জামা-কাপড় কিনতে হবে।  এবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাকের্টে বের হলাম। কেনাকাটা শুরু করলাম স্ত্রী জন্য ভালো মানে লাল টুকটুকে একটি শাড়ি,কসমেটিক, জুতা আরো কত কি। আমার ছেলে-মেয়ের জন্য জামা-কাপড়, মা-বাবা ভাই-বোনদের জন্যও জামা-কাপড়,জুতা-সেন্ডেল কেনাকাটা শেষ করলাম।ঈদের বাজেট প্রায় শেষে কিন্তু আমার জন্য এখনো কিছু কেনা কাটা হয়নি ভাবছি এবার সুন্দর একটি পাঞ্জাবী, পাঞ্জমা, নতুন জুতা নিবো এবং  সাথে শাট ও প্যান্ট কেনার ইচ্ছে টাও মনের ছিল। কিন্তু স্ত্রী আমার দাবী করে বসলো এবার ঈদে শুধু শাড়ীই দিবা থ্রি পিস কি হবে না।স্ত্রীর দাবী মুখে আমি পিছু হটলাম, স্ত্রী মুখে হাসি ফুটাতে গিয়ে তাকে থ্রি পিস কিনে দিলাম। এখন ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি আমার হাতে আছে মাত্র ২০০০/=টাকা। আমার জামা-কাপড় এবং ঈদের বাজার করার জন্য। ছেলে মেয়ে আবার বায়না ধরলো তাদের লাল জুতা কিনে দিতে হবে। ছেলে-মেয়ের সুখ তো আমার সুখ, তাই তাদের ইচ্ছে পুরন করতে দুই জন কে ১০০০/=(এক হাজার) টাকা দিয়ে দুই জোড়া লাল জুতা কিনে দিলাম। আমার হাতে আছে মাত্র ১০০০/= টাকা এর মধ্যে আমাকে আমার ঈদের  সব বাজার করতে হবে। এবার আমি বাজার গেলাম.......ঈদের বাজার তো সব কিছুর দাম একটু বেশী এই টাকার মধ্যে পাঞ্জাবী কিনলে জুতা কেনার টাকা নেই.....শাট কিনলে প্যান্ট কেনার টাকা নেই।কিন্তু ঈদ বলে কথা....আমি যদি ঈদে কেনা কাটা না করি তাহলে স্ত্রী-সন্তান মা-বাবা তো কষ্ট পাবে। তাই সবার মুখে হাসি ফুটাতে আমি একটু ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করলাম। কারন হাতে তো তেমন টাকা নেই, তাই কাচঁপুরের খোলা বাজার থেকে এক্সপোর্টের একটি জিন্সে প্যান্ট যার দাম-৩০০/=টাকা, হাফ হাতা একটি গেঞ্জি যার দাম-৩০০/=টাকা এবং পায়ের জুতা নিলাম ৪০০/=টাকায়। কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিলো প্রতি বার ঈদে কমদামী কাপড়চোপড় কিনলেও এবার ঈদে একটু দামী জিনিস নিবো। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্বেও তা হলো না শুধূ স্ত্রী-সন্তান এবং ভাই-বোনদের মুখে হাসি ফুটাতে গিয়ে। এখন আমি বুঝি আমার বাবাও আমার জন্য ও আমার মায়ের জন্য তার সকলে ইচ্ছে ত্যাগ করেছে। ঠিক তেমনি আমিও আমার বাবার মত আমর স্ত্রী সন্তানদের ইচ্ছে পুরনে নিজে ইচ্ছে ও সুখ বিসর্জন দিতে হচ্ছে্। আমার বাবা, তার বাবা, আমিও বাবা সব বাবার জীবন এমনি হয়। আমি বাস্তবতার সাথে খেয়াল করে দেখলাম আমাদের ছেলেদের  জীবন  চাকরের মতই......................একটি উদাহরণ দিয়েই শেষ করবো........প্রতিরাতে একজন রিক্সা চালক বাসা ফেরার পথে আমার বাসার সামনে একটি চায়ের দোকানে এসে কিছু কেনাকাটা করে। এভাবে ঐ রিক্সা চালক কে কয়েক মাস দেখলাম যা কিছু কেনাকাটা করে তার মাঝে একটি জিনিস নিয়মিত নেয়। সেই জিনিসটি নিতে কখনো ভুল করে না তা হলো এক কাপ দুধের মালাই এবং একটি কেক। এই দৃশ্য আমি অনেক বার দেখে একদিন আমি   রিক্সা চালক ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই প্রতিদিন মালাই কি করেন। উত্তরে রিক্সা চালক ভাই বললো  এই দুধের মালাই আমার স্ত্রীর খুব পছন্দ তাই তার জন্য প্রতি রাতে নিয়া যাই।তখন আমি তাকে উদ্দেশ্যে করে বললাম কষ্টের পরিশ্রম করেন আপনি আর মালাই খায় ভাবি............তখন ঐ রিক্সা চালক ভাই আমাকে উদ্দেশ্যে করে বললো একট সুখে জন্যই সব করার কিছুই নেই। আমি বললাম কেন ভাই.......সে তখন বললো সার দিন পরিশ্রম করি এখানে ওখানে যাই....রিক্সার ড্রাইভার বলে সবাই মন্দ কথা বলে। আবার কেউ কেউ ভাড়া নিয়া অচথায় বকা ঝকা দেয় এভাবেই কাটে সারা দিন। কিন্তু একটি মানুষই আমার শুধু আমাকে দেখে হাসে এবং সুন্দর কথা বলার চেষ্টা করে সেটা হলো আমার স্ত্রী। আর আমার স্ত্রী রাতে ঘরে ফিরলে মালাই এবং কেক দেখলে ও খুব খুশি হয়। ওর সেই হাসিটা আমার সারা দিনের ক্লান্ত দুর হয়ে যায়।আমরা ছেলেরা শুধু অন্যের হাসি ফুটানোর জন্য যত পরিশ্রম.....নিজের জন্য কখনো কি চিন্তা করেছি..............

Axact

Axact

Vestibulum bibendum felis sit amet dolor auctor molestie. In dignissim eget nibh id dapibus. Fusce et suscipit orci. Aliquam sit amet urna lorem. Duis eu imperdiet nunc, non imperdiet libero.

Post A Comment:

0 comments: