September 2017
বন্ধুরা সেলফি তুলছে। পিছনে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে ঘুরতে আসা আরেক বন্ধু। তবুও টের পেলো না বন্ধুর আর্তনাদ? এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুরের ন্যাশনাল কলেজের ১৭ বছরের ছাত্র বিশ্বাসের সঙ্গে। সেলফিতে দেখা যায় তার বন্ধুরা মজা করে ছবি তুলছে। তার ঠিক পিছনে কিছুটা দূরে ডুবন্ত অবস্খায় মাথাটা দেখা যাচ্ছে।
রোববার ন্যাশনাল কলেজের এক পিকনিকে বিশ্বাস তার বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পুকুরে নামলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। বলা হয় পুুকুরটি প্রায় দশ ফিটের বেশি গভীর ছিল।
বন্ধুদের দেয়া তথ্যমতে, সবাই তাকে নোটিশ না করে পুকুর ছেড়ে উঠে এক মন্দিরে বেড়াতে যায়। সেখানে মোবাইলে ছবিগুলো দেখার সময় একজন খেয়াল করেন যে, তাদের সেলফিতে পিছনে তাদের বন্ধু বিশ্বাস ডুবন্ত মাথা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পরে ছাত্ররা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুকুর থেকে বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
বিশ্বাসের পরিবার কলেজের গাফিলতিকে দায়ি করে বলেন, কলেজ ট্যুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে ন্যাশনাল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানায়,  ২৫ জন ছাত্র এক জন শিক্ষকের অধীনে কলেজ ট্যুরে যায়। তারপর এই দুর্ঘটনার শিকার হন। এদিকে সোমবার বিশ্বাসের অভিভাবক এবং ছাত্ররা কলেজের বিরুদ্ধে প্র্রতিবাদ করেছে। কলেজের পক্ষ থেকে বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত করার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা প্রতিবাদ থামিয়ে চলে যান।
নিহত বিশ্বাসের বাবা গোবিন্দ পেশায় একজন অটো চালক। তিনি বলেন, এবিষয়ে একটি পুলিশ ফাইল করা হলেও এখন পর্যন্ত কলেজ কিংবা কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরণের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
বন্ধুরা সেলফি তুলছে। পিছনে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে ঘুরতে আসা আরেক বন্ধু। তবুও টের পেলো না বন্ধুর আর্তনাদ? এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুরের ন্যাশনাল কলেজের ১৭ বছরের ছাত্র বিশ্বাসের সঙ্গে। সেলফিতে দেখা যায় তার বন্ধুরা মজা করে ছবি তুলছে। তার ঠিক পিছনে কিছুটা দূরে ডুবন্ত অবস্খায় মাথাটা দেখা যাচ্ছে।
রোববার ন্যাশনাল কলেজের এক পিকনিকে বিশ্বাস তার বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পুকুরে নামলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। বলা হয় পুুকুরটি প্রায় দশ ফিটের বেশি গভীর ছিল।
বন্ধুদের দেয়া তথ্যমতে, সবাই তাকে নোটিশ না করে পুকুর ছেড়ে উঠে এক মন্দিরে বেড়াতে যায়। সেখানে মোবাইলে ছবিগুলো দেখার সময় একজন খেয়াল করেন যে, তাদের সেলফিতে পিছনে তাদের বন্ধু বিশ্বাস ডুবন্ত মাথা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পরে ছাত্ররা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুকুর থেকে বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
বিশ্বাসের পরিবার কলেজের গাফিলতিকে দায়ি করে বলেন, কলেজ ট্যুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে ন্যাশনাল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানায়,  ২৫ জন ছাত্র এক জন শিক্ষকের অধীনে কলেজ ট্যুরে যায়। তারপর এই দুর্ঘটনার শিকার হন। এদিকে সোমবার বিশ্বাসের অভিভাবক এবং ছাত্ররা কলেজের বিরুদ্ধে প্র্রতিবাদ করেছে। কলেজের পক্ষ থেকে বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত করার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা প্রতিবাদ থামিয়ে চলে যান।
নিহত বিশ্বাসের বাবা গোবিন্দ পেশায় একজন অটো চালক। তিনি বলেন, এবিষয়ে একটি পুলিশ ফাইল করা হলেও এখন পর্যন্ত কলেজ কিংবা কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরণের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
ঈদের দিনে ছেলের জন্য বাড়ি থেকে জামা-কাপড় আনতে গিয়ে জীবিত ফেরা হলো না রোহিঙ্গা দম্পতির।  বর্ডার গাড অব পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে প্রাণ হারান তারা।
শনিবার সকাল থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রচন্ড গুলি বর্ষনের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়াও ঢেকিবনিয়া ও বলিবাজারের আকাশ আগুনের ধোঁয়ায় মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে গ্রাম ছেড়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অাশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে কেউ কেউ কুতুপালং ও বালুখালীতে বস্তিতে ঢুকে পড়ছে। জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়া উত্তরপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা মো. জারুল্লাহ (৩০) ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম(২০) শনিবার সকালে একমাত্র ছেলের জন্য কাপড় আনতে যায় গ্রামে। কাপড় ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরত আসার সময় মিয়ানমারের বিজিপি'র টহল দলের সামনে পড়লে গুলি করে তাদেরকে হত্যা করা হয়। পরে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী নিহতের নিকটাত্মীয় কয়েকজন যুবক গিয়ে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তের এপারে নিয়ে আসে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মনঞ্জুরুল হাসান খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে বলেন, সীমান্তে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি তৎপর রয়েছে।  
গত ২৪ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় পুরো রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতায় মিয়ানমার সরকারের তথ্যে এ পর্যন্ত ১০৬ জন নিহত হয়েছে। এতে ১২জন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। কিন্তু রোহিঙ্গাদের তথ্য মতে এই পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ, শিশু নিহত হয়েছে।
ঈদের দিনে ছেলের জন্য বাড়ি থেকে জামা-কাপড় আনতে গিয়ে জীবিত ফেরা হলো না রোহিঙ্গা দম্পতির।  বর্ডার গাড অব পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে প্রাণ হারান তারা।
শনিবার সকাল থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রচন্ড গুলি বর্ষনের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়াও ঢেকিবনিয়া ও বলিবাজারের আকাশ আগুনের ধোঁয়ায় মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে গ্রাম ছেড়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অাশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে কেউ কেউ কুতুপালং ও বালুখালীতে বস্তিতে ঢুকে পড়ছে। জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়া উত্তরপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা মো. জারুল্লাহ (৩০) ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম(২০) শনিবার সকালে একমাত্র ছেলের জন্য কাপড় আনতে যায় গ্রামে। কাপড় ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরত আসার সময় মিয়ানমারের বিজিপি'র টহল দলের সামনে পড়লে গুলি করে তাদেরকে হত্যা করা হয়। পরে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী নিহতের নিকটাত্মীয় কয়েকজন যুবক গিয়ে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তের এপারে নিয়ে আসে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মনঞ্জুরুল হাসান খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে বলেন, সীমান্তে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি তৎপর রয়েছে।  
গত ২৪ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় পুরো রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতায় মিয়ানমার সরকারের তথ্যে এ পর্যন্ত ১০৬ জন নিহত হয়েছে। এতে ১২জন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। কিন্তু রোহিঙ্গাদের তথ্য মতে এই পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ, শিশু নিহত হয়েছে।
গত বছর ঈদুল আজহার দিনে তিন মণ ওজনের গরু কোরবানি দিয়েছিলেন। আত্মীয়–স্বজনেরা বাড়িতে এসে চালের রুটির সঙ্গে গরুর মাংস খেয়েছেন পেটভরে। ছেলেমেয়েরা মংডু শহরে গিয়ে চার চাকার রিকশায় চড়েছে। আর এখন সেসব স্মৃতি। আজ ঈদের দিনে আশ্রয়ের আশায় টেকনাফের পথে পথে ঘুরতে হচ্ছে। সকালে ছেলেমেয়েরা কলা আর বিস্কুট খেয়েছে। দুপুরে মুখে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। মিয়ানমারের সেনারা ঈদের আনন্দ মাটি করে দিয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে টেকনাফের ডেইলপাড়া গ্রামে কথাগুলো বললেন সেতারা বেগম (৪৫)। তাঁর বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিকদারপাড়ায়। আগের দিন শুক্রবার রাতে তিনি পরিবারের চার সদস্য নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ ওঠেন। সেখান থেকে রিকশায় যান টেকনাফ। তারপর হেঁটে হেঁটে এই ডেইলপাড়ায়। দুরবস্থার কথা শুনে লোকজন তাঁকে কিছু অর্থ সহায়তাও দেন। সেতারা বেগম বলেন, তাঁরা আরাকানের মুসলমান। এখন যেটাকে ‘রাখাইন রাজ্য’ বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ‘আরাকান রাজ্য’। সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়ে আরাকানের মুসলমানদের জন্মভূমি ছাড়তে হচ্ছে। আর ‘রোহিঙ্গা’ বলে হেয় করা হচ্ছে। সব জায়গাতেই তাঁরা পরিস্থিতির ‘শিকার’ বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঢুকতে এখন রোহিঙ্গাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। যানবাহনে চড়ে এদিক-সেদিক যেতেও সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই ও খাওয়াদাওয়া। টেকনাফের পথে পথে এখন রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা। শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়কে লাইন ধরে হাঁটছেন রোহিঙ্গারা। কেউ যাচ্ছেন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের দিকে। কেউ কেউ ঢুকে পড়ছে গ্রামে। তাঁরা আশ্রয় নিচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঝোপজঙ্গলে। অসহায় বলে স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ অথবা বাধা দিচ্ছেন না। আজ টেকনাফের প্রতিটা ঈদের জামাতে বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। নিন্দা জানানো হয় মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি। সকালে শাহপরীর দ্বীপ সড়ক ও পাশের বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশে বসে ছিলেন কয়েক শ রোহিঙ্গা। তাঁরা আজ ভোরে নৌকায় এখানে পৌঁছেছে। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন আরও কিছু নৌকার জন্য। কিন্তু নৌকার দেখা মিলছে না। নৌকা আসতে যত দেরি হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তত বাড়ছে। কারণ, নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে ৫০ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আছেন অনেকে। রোহিঙ্গাদের একজন সৈয়দ করিম (৫৫) বলেন, জীবনে এই প্রথম খোলা আকাশের নিচে কোরবানির ঈদ কাটাচ্ছেন। এবার ঈদের নামাজও পড়া হয়নি। ছেলেমেয়েরা ক্ষুধার জ্বালায় কান্নাকাটি করছে। বেড়িবাঁধের ওপর বসা রাখাইন রাজ্যের বুচিদং এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কামাল আহমদ (৪৫), মনিরা বেগম (৫০) ও রহিম উল্লাহ (৪৮) বলেন, গত কোরবানির ঈদে রাখাইন রাজ্যে ৩০টির বেশি রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত গ্রামে কয়েক শ পশু জবাই হয়েছিল। এবার একটিও হয়নি। মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। গৃহপালিত পশুসহ সব মালামাল লুট করেছে। রোহিঙ্গাদের কষ্টের ঈদ কাটছে বাংলাদেশের পথঘাটে। ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ২০টির বেশি সীমান্তচৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেখানকার সেনা ও পুলিশ। দমনপীড়নের মুখে আজ দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা। একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য ছেড়েছেন সেখানকার ৪৯৫ জন হিন্দু। তাঁরা অবস্থান করছেন উখিয়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঈদ কাটছে চরম কষ্টে। পলিথিন ও গাছের লতাপাতা দিয়ে তৈরি ঝুপড়িঘরে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁদের কাটাতে হচ্ছে গৃহবন্দী অমানবিক জীবন। দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের আল জামেয়া মার্কেটে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসে ছিলেন আকলিমা খাতুন (৪০) নামের এক রোহিঙ্গা। একটু দূরে অবস্থান করছে আরও ৫০ জনের রোহিঙ্গা দল। দলের অধিকাংশ সদস্য নারী ও শিশু। উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু ঈদের দিন বলে চালকেরা কেউ গাড়ি চালাচ্ছেন না। আকলিমা খাতুন বলেন, ৩০ আগস্ট বিকেলে রাখাইন রাজ্যের সিকদারপাড়াটি ঘিরে ফেলে সেনা ও পুলিশের কয়েক শ সদস্য। এরপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ চলে। প্রাণভয়ে লোকজন দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। এ সময় মাথায় গুলি লেগে তাঁর স্বামী দিল মোহাম্মদের মৃত্যু হয়। এক ছেলে বেলাল (১৬) পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। ওই রাতেই তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে টেকনাফ পালিয়ে আসেন। বেলালকে চিকিৎসার জন্য আগে পাঠানো হয়েছে কক্সবাজার। আকলিমার আকুতি—শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই।
গত বছর ঈদুল আজহার দিনে তিন মণ ওজনের গরু কোরবানি দিয়েছিলেন। আত্মীয়–স্বজনেরা বাড়িতে এসে চালের রুটির সঙ্গে গরুর মাংস খেয়েছেন পেটভরে। ছেলেমেয়েরা মংডু শহরে গিয়ে চার চাকার রিকশায় চড়েছে। আর এখন সেসব স্মৃতি। আজ ঈদের দিনে আশ্রয়ের আশায় টেকনাফের পথে পথে ঘুরতে হচ্ছে। সকালে ছেলেমেয়েরা কলা আর বিস্কুট খেয়েছে। দুপুরে মুখে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। মিয়ানমারের সেনারা ঈদের আনন্দ মাটি করে দিয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে টেকনাফের ডেইলপাড়া গ্রামে কথাগুলো বললেন সেতারা বেগম (৪৫)। তাঁর বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিকদারপাড়ায়। আগের দিন শুক্রবার রাতে তিনি পরিবারের চার সদস্য নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ ওঠেন। সেখান থেকে রিকশায় যান টেকনাফ। তারপর হেঁটে হেঁটে এই ডেইলপাড়ায়। দুরবস্থার কথা শুনে লোকজন তাঁকে কিছু অর্থ সহায়তাও দেন। সেতারা বেগম বলেন, তাঁরা আরাকানের মুসলমান। এখন যেটাকে ‘রাখাইন রাজ্য’ বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ‘আরাকান রাজ্য’। সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়ে আরাকানের মুসলমানদের জন্মভূমি ছাড়তে হচ্ছে। আর ‘রোহিঙ্গা’ বলে হেয় করা হচ্ছে। সব জায়গাতেই তাঁরা পরিস্থিতির ‘শিকার’ বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঢুকতে এখন রোহিঙ্গাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। যানবাহনে চড়ে এদিক-সেদিক যেতেও সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই ও খাওয়াদাওয়া। টেকনাফের পথে পথে এখন রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা। শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়কে লাইন ধরে হাঁটছেন রোহিঙ্গারা। কেউ যাচ্ছেন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের দিকে। কেউ কেউ ঢুকে পড়ছে গ্রামে। তাঁরা আশ্রয় নিচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঝোপজঙ্গলে। অসহায় বলে স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ অথবা বাধা দিচ্ছেন না। আজ টেকনাফের প্রতিটা ঈদের জামাতে বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। নিন্দা জানানো হয় মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি। সকালে শাহপরীর দ্বীপ সড়ক ও পাশের বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশে বসে ছিলেন কয়েক শ রোহিঙ্গা। তাঁরা আজ ভোরে নৌকায় এখানে পৌঁছেছে। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন আরও কিছু নৌকার জন্য। কিন্তু নৌকার দেখা মিলছে না। নৌকা আসতে যত দেরি হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তত বাড়ছে। কারণ, নাফ নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে ৫০ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আছেন অনেকে। রোহিঙ্গাদের একজন সৈয়দ করিম (৫৫) বলেন, জীবনে এই প্রথম খোলা আকাশের নিচে কোরবানির ঈদ কাটাচ্ছেন। এবার ঈদের নামাজও পড়া হয়নি। ছেলেমেয়েরা ক্ষুধার জ্বালায় কান্নাকাটি করছে। বেড়িবাঁধের ওপর বসা রাখাইন রাজ্যের বুচিদং এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কামাল আহমদ (৪৫), মনিরা বেগম (৫০) ও রহিম উল্লাহ (৪৮) বলেন, গত কোরবানির ঈদে রাখাইন রাজ্যে ৩০টির বেশি রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত গ্রামে কয়েক শ পশু জবাই হয়েছিল। এবার একটিও হয়নি। মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। গৃহপালিত পশুসহ সব মালামাল লুট করেছে। রোহিঙ্গাদের কষ্টের ঈদ কাটছে বাংলাদেশের পথঘাটে। ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ২০টির বেশি সীমান্তচৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেখানকার সেনা ও পুলিশ। দমনপীড়নের মুখে আজ দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা। একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য ছেড়েছেন সেখানকার ৪৯৫ জন হিন্দু। তাঁরা অবস্থান করছেন উখিয়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঈদ কাটছে চরম কষ্টে। পলিথিন ও গাছের লতাপাতা দিয়ে তৈরি ঝুপড়িঘরে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁদের কাটাতে হচ্ছে গৃহবন্দী অমানবিক জীবন। দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের আল জামেয়া মার্কেটে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসে ছিলেন আকলিমা খাতুন (৪০) নামের এক রোহিঙ্গা। একটু দূরে অবস্থান করছে আরও ৫০ জনের রোহিঙ্গা দল। দলের অধিকাংশ সদস্য নারী ও শিশু। উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু ঈদের দিন বলে চালকেরা কেউ গাড়ি চালাচ্ছেন না। আকলিমা খাতুন বলেন, ৩০ আগস্ট বিকেলে রাখাইন রাজ্যের সিকদারপাড়াটি ঘিরে ফেলে সেনা ও পুলিশের কয়েক শ সদস্য। এরপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ চলে। প্রাণভয়ে লোকজন দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। এ সময় মাথায় গুলি লেগে তাঁর স্বামী দিল মোহাম্মদের মৃত্যু হয়। এক ছেলে বেলাল (১৬) পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। ওই রাতেই তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে টেকনাফ পালিয়ে আসেন। বেলালকে চিকিৎসার জন্য আগে পাঠানো হয়েছে কক্সবাজার। আকলিমার আকুতি—শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরগরম সারা বাংলাদেশ। সর্বসাধারণের ভেতর এ বিষয়ে চলছে কথা চালাচালি। বাদ যাচ্ছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জ্যৈষ্ঠ অভিনেতারাও। যেমন ওমর সানি। তিনি মায়ানমারের অং সাং সুচির সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ধিক্কার জানিয়েছেন সুচিকে।
ওমর সানি লিখেছেন: ‘প্রথমেই শুরু করি হিটলারকে দিয়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে হিটলার কিন্তু লাশের বিভৎষতা বীভৎসতা দেখা যায়নি। তারপর আসেন লেলিন, মুসলীনি মাঝখানে পৃথিবীতে আরও অনেকের নামই এসেছে। পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভূট্টু তার বীভৎসতা আমরা ছবিতে দেখেছি এবং বাস্তবেও অনেকে দেখেছেন। আপনারা আমার সাথে একমত হবেন কি না, তা আমি জানি না। আমার জানা মতে সবার আগে হত্যা, নিশংসতা, বিভৎষতায় সব চেয়ে এগিয়ে আছেন সুচি। বিশ্ব মুসলিম এবং অন্য ধর্মের সবাই এই রোহিঙ্গাদের বাঁচাবার জন্য জিহাদী যুদ্ধ বলেন, বিবেকের যুদ্ধ বলেন, মানবতার যুদ্ধ বলেন সব যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। আমরা তখনই হাসব, যখন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। হে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। এই বীভৎস মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আজকের এই ঈদের আনন্দের দিনে এই ফরিয়াদ জানাই আপনার কাছে। ধিক্কার ধিক্কার ধিক্কার জানাই এই মানব হত্যাকারী রক্ত পিপাসু সুচিকে।’
প্রিয়
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরগরম সারা বাংলাদেশ। সর্বসাধারণের ভেতর এ বিষয়ে চলছে কথা চালাচালি। বাদ যাচ্ছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জ্যৈষ্ঠ অভিনেতারাও। যেমন ওমর সানি। তিনি মায়ানমারের অং সাং সুচির সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ধিক্কার জানিয়েছেন সুচিকে।
ওমর সানি লিখেছেন: ‘প্রথমেই শুরু করি হিটলারকে দিয়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে হিটলার কিন্তু লাশের বিভৎষতা বীভৎসতা দেখা যায়নি। তারপর আসেন লেলিন, মুসলীনি মাঝখানে পৃথিবীতে আরও অনেকের নামই এসেছে। পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভূট্টু তার বীভৎসতা আমরা ছবিতে দেখেছি এবং বাস্তবেও অনেকে দেখেছেন। আপনারা আমার সাথে একমত হবেন কি না, তা আমি জানি না। আমার জানা মতে সবার আগে হত্যা, নিশংসতা, বিভৎষতায় সব চেয়ে এগিয়ে আছেন সুচি। বিশ্ব মুসলিম এবং অন্য ধর্মের সবাই এই রোহিঙ্গাদের বাঁচাবার জন্য জিহাদী যুদ্ধ বলেন, বিবেকের যুদ্ধ বলেন, মানবতার যুদ্ধ বলেন সব যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। আমরা তখনই হাসব, যখন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। হে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। এই বীভৎস মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আজকের এই ঈদের আনন্দের দিনে এই ফরিয়াদ জানাই আপনার কাছে। ধিক্কার ধিক্কার ধিক্কার জানাই এই মানব হত্যাকারী রক্ত পিপাসু সুচিকে।’
প্রিয়