ছুটির ঘণ্টা’ ছবিটার কথা মনে আছে? ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন ১২ বছরের ছাত্র খোকন স্কুলের বাথরুমেআটকা পড়েছিল। কী নিদারুণ কষ্ট নিয়ে টানা ১১ দিন সে আটকে ছিল সেই বাথরুমে! বাঁচার আকুলতায় ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে নিজের বই-খাতা, টাকা আর বাথরুমে পড়ে থাকা কাগজও খেয়েছিল সে। কিন্তু ১১ দিনের ছুটি শেষে যখন খোকনকে সেই বাথরুম থেকে বের করা হলো, ততক্ষণে তার জীবনের ছুটির ঘণ্টা বেজে গেছে।ঠিক যেন সেই ‘ছুটির ঘণ্টা’র কাহিনীটাই ফিরে আসে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল ছুটির ঘণ্টা দেওয়া হয়। শুক্রবার স্কুল বন্ধ। সবাই বই-খাতা নিয়ে হইহুল্লোড় করে স্কুল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিয়ন দাসও (১১) বইখাতা গুছিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়। তারপর বাড়ি যাওয়ার আগে স্কুলের বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে আটকা পড়ে সে।স্কুল ছুটি হলেও ছেলে বাড়ি ফিরে না আসায় ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়নের বাবা অরবিন্দ দাস অস্থির হয়ে ওঠেন। পাড়া, গ্রামের সব জায়গায় খোঁজেন ছেলেকে। কিন্তু লিয়ন কোথাও নেই। সহপাঠীরাও লিয়নকে দেখেছে বইখাতা নিয়ে ক্লাস থেকে বের হতে।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। লিয়ন তবু বাড়ি আসে না। লিয়নের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর এবাড়ি-ওবাড়ি করে রটিয়েপড়ে সারা গাঁয়ে। সহপাঠী, শিক্ষক আর স্কুলের দপ্তরিসহ গ্রামের মানুষ তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে লিয়নকে। আর লিয়ন বাথরুমে আটকা পড়ে অসহায়ভাবে ডাকতে থাকে বাবা-মাকে। কিন্তু ইট-কাঠের দেয়াল ভেদ করে লিয়নের ডাক শুনতে পায় না কেউ।দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা- টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা লিয়নকে কোথাও না পেয়ে হতাশ গ্রামবাসী যান স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানির বাড়িতে। তাঁর কাছ থেকে স্কুলের চাবি নিয়ে আসেন। স্কুলের বিভিন্ন কক্ষ খুলেও খোঁজ পায়নি লিয়নের। অবশেষে একটি বাথরুম খুলে তারা দেখতে পান লিয়ন খানিকটা চেতনাহীনভাবে পড়ে রয়েছে। দ্রুত তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। মধ্য রাতের দিকে লিয়ন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। লিয়ন ফিরে আসে মায়ের কোলে। আরেকটি ‘ছুটির ঘণ্টা’র অঘটন থেকে বেঁচে যায় ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানিএ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনটি ঘটবে বুঝতেই পারিনি। বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। পিয়ন বাথরুমের দরজা লাগানোর সময় নিশ্চয়ই সতর্ক ছিল না। শনিবার স্কুল খুললে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেব।’আটকে পড়া লিয়ন দাস বলে, ‘বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির ঘণ্টা পড়ে দুপুর আড়াইটায়। ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলেও আমি বইখাতা নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছিলাম। সেখানে একটু সময়ও লেগেছিল। এর মধ্যে কখন যে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে তা বুঝতেই পারিনি। এরপর আর চেষ্টাকরেও বের হতে পারিনি। ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু কেউ তো আমার কথা শুনেনি, জবাবও পাইনি।

Axact

Axact

Vestibulum bibendum felis sit amet dolor auctor molestie. In dignissim eget nibh id dapibus. Fusce et suscipit orci. Aliquam sit amet urna lorem. Duis eu imperdiet nunc, non imperdiet libero.

Post A Comment:

0 comments: