স্পোর্টস ডেস্ক: এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে  যেসব তারকা মাঠ কাঁপাবেন তাদের মধ্যে বিধ্বংসী অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড ওয়ার্নার অন্যতম।  অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার বিধ্বংসী ডেভিড ওয়ার্নার  ২৫-৩০ ওভার ব্যাটিং করা মানেই অনেক সময় যে ম্যাচ থেকে প্রতিপক্ষের ছিটকে যাওয়া! অস্ট্রেলিয়াকে বেশি দূর এগোতে দিতে না চাইলে তাই ওয়ার্নারকে শুরুতেই থামাতে হবে।  

ওয়ার্নার ছাড়া আরও একজনের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া—স্টিভেন স্মিথ।  অধিনায়ক হিসেবে এটা আবার স্মিথের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট, নিশ্চয়ই বড় কিছু করতে চাইবেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।

ভারতের হয়ে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ওয়ানডেতে সর্বকালের সেরাদের একজন বলে দিচ্ছেন কেউ কেউ।  এই প্রশংসা যে অকারণ নয়, সেটা প্রমাণ করতে নিশ্চয়ই উন্মুখ কোহলি।  এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান।  সব মিলিয়ে তাঁকে যতটা পারা যায় নীরব রাখতে চাইবে প্রতিপক্ষরা।

স্মিথ-কোহলির মতো আরও দুজন অধিনায়কের কথা বলা যায়, যাঁরা আবার নিজ নিজ দলের সেরা ব্যাটসম্যানও।  নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।  মাত্র ২৬ বছর বয়স উইলিয়ামসনের।  এখনই তাঁর মধ্যে নিউজিল্যান্ড

ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

মাঠের যেকোনো প্রান্তে বল পাঠাতে পারেন বলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নামই হয়ে গেছে ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ ক্রিকেটার।  মাত্রই চোট কাটিয়ে ফিরেছেন।  তবে আইপিএলের বেশ কয়েকটি ম্যাচে যে রূপে দেখা দিয়েছেন, তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ডি ভিলিয়ার্স-তাণ্ডব দেখার প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই যায়।

ইংল্যান্ডের জো রুটের নামটাও চলে আসে সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।  ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক সব সংস্করণের ক্রিকেটেই অসাধারণ।  এবার শুধু সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তকমাটার প্রতি সুবিচার করে যাওয়ার পালা।

তবে ইংল্যান্ডের হয়ে রুটের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ বেন স্টোকসের।  ব্যাটে-বলে তাঁর মতো সমান কার্যকর এমন একজনকে পাওয়া যেকোনো দলের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার।  ওয়ানডের বিশ্ব আসরে ট্রফি জিততে না-পারার আক্ষেপ ঘোচানোর জন্য তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে ইংল্যান্ড।

সাকিব আল হাসানের কাছে বাংলাদেশের অনেক প্রত্যাশা ।  কিংবা তার চেয়েও বেশি।  বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলে কথা! তবে বড় মঞ্চে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করে দেখাতে পারেননি সাকিব।  সেই তাড়নাটা যদি মাঠের পারফরম্যান্সে অনূদিত হয়, লাভটা বাংলাদেশেরই হবে।

আবার গত দুই বছরের পারফরম্যান্সে সন্দেহাতীতভাবে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।  সঙ্গে ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁর দারুণ কিছু স্মৃতি তো আছেই।  সব মিলিয়ে তামিমের কাছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা বাংলাদেশেরও।

চোটের কারণে প্রায় এক বছর বাইরে ছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা।  তবে বোলিংয়ের ধার যে খুব একটা হারাননি, সেটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।  এবার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দুর্বল দল শ্রীলঙ্কার সব আশা-ভরসাও তিনি।

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার পাকিস্তান দলে ফিরেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে গেছেন মোহাম্মদ আমির।  বাঁহাতি এই পেসারের গতি আর সুইং ইংলিশ কন্ডিশনে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের।

তবে দল হিসেবে এবার শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের শক্তি যেমন, তাতে একা মালিঙ্গা বা আমিরের পক্ষে পুরো টুর্নামেন্ট টেনে নিয়ে যাওয়া কঠিন! সে জন্য যোগ্য সংগত লাগবে অন্য কারও।  সেটি যদি অন্য কেউ দিতে পারেন, হয়তো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পেয়ে যাবে নতুন তারকাও।

Axact

Axact

Vestibulum bibendum felis sit amet dolor auctor molestie. In dignissim eget nibh id dapibus. Fusce et suscipit orci. Aliquam sit amet urna lorem. Duis eu imperdiet nunc, non imperdiet libero.

Post A Comment:

0 comments: