মোঃ মিঠু আহমেদ
সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পদন্নোতি পাওয়া সেই এসআই আবুল কালাম আজাদ মানবিক কাজে অবদান রেখে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে
এবার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈর থানার চোপড়া গ্রামের পিপুলের
বিস্তারির এস আই আজাদের মুখেই শুনুন
আমাদের সমাজে অনেক ধনী ও বৃত্তবান ব্যক্তি রয়েছে যাদের কোটি কোটি টাকার ধন সম্পদ, দামী দামী গাড়ী বাড়ী থাকা সত্ত্বেও পড়া লেখায় মনযোগী হয় না। অথচ যার কিছুই নেই সে তার শ্রম ব্যয় রিক্সার চালিয়ে এবং রিক্সার গ্যাজের আলোতে পড়ালেখা করছে মনযোগ সহকারে। গত ০৪/০৭/২০১৭ইং তারিখ রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় আমি ঔষধ ক্রয় করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা খন্দকার প্লাজার সামনে থেকে রিক্সা যোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। পথিমধ্যে রিক্সা চালকের সাথে কথা-আলাপন শুরু হয়। একপর্যায়ে আমি রিক্সা চালকের নাম জিজ্ঞাসা করি, উত্তরে সে জানায় স্যার আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক আমার নাম পিপলু(২৬), পিতা-চিহারু, গ্রাম-চোপড়া, থানা-রাণীশংকৈর, জেলা-ঠাকৃরগাঁ। রিক্সা চালকের ছেলে-মেয়ে আছে কিনা জানতে চাইলে সে মুচকি হাসি দিয়ে বলে....স্যার এখনও তো পড়ালেখাই শেষ হয়নি বিয়া করবো কি ভাবে। হঠাৎ চমকে উঠি আমি আবার প্রশ্ন করি আপনি কিসে পড়ালেখা করেন উত্তরে সে জানায় আমি অনার্স ফাইনাল শেষ বর্ষের ছাত্র, কোন কলেজে...সে জানায়...ঠাকুরগাঁ ন্যাশনাল ইউনিভার সিটিতে। তখন আমি অবাক হয়ে যাই তার কথাশুনে। তার সর্কেম্প আরো বিস্তারিত জানাতে ইচ্ছে জাগে....আবার মনে মাঝে প্রশ্ন জাগে সে কি কোন মিথ্যে বলছে। তবুও জানার অনেক ইচ্ছে ...... ৫ মিনিটের পথ গড়ালো দুই ঘন্টা, বাসার সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে তার সব কথাগুলো শুনলাম.... কষ্ট মাখা স্মৃতির কথাও শুনলাম। সে জানায় স্যার আমরা ৪ (চার) ভাই এক বোন..তাদের মাঝে আমি সবার ছোট্ট, বাবা অনেক গরীব মানুষ, আর ০৩(তিন) ভাই কৃষি কাজ করে কোন রকম তাদের সংবাদর চালায়, আর্থিক অভাব অনটনের কারনে আমি নিজের পড়ালেখা চালনোর জন্যই রিক্সা চালাই। কারণ দিনের রিক্সা চালাইয়া যে টাকা পাই তা দিয়ে নিজের খরচ ও মা-বাবা সহ পরিবারের খরচ চালাইতে পারি এবং রাত্রে ঠিকমত লেখাপাড়ার সুযোগটা পাই। তিনি আরো জানায় রাত্রে যে গ্যারেজে রিক্সা রাখা হয় সেই গ্যারেজের বিদুৎতের আলোতে পড়ালেখা করি। পিপুল একপর্যায়ে ভরাক্রান্ত মনে বলে স্যার আমি আয় করতে এসে ব্যায়ের খাতা নাম লেখে ফেললাম। আমি কারন জানতে চাইলে সে জানায় গত জুন/২০১৭ মাসের ০২ তারিখে সোনারগাঁ যাদুঘরের সামনে একজন প্রতারক আমার রিক্সায় ভদ্র ভেসে উঠে আমাকে বলে ভাইজান এই পাঁচশত টাকা দিয়ে ঐ দোকান থেকে দুই প্যাকেট বিরানী নিয়ে আসেন। আমি তখন বিরানী আনার জন্য রেস্টরেন্টে যাই। কিন্তু বিরানী নিয়ে এসে রাস্তায় আর রিক্সা সহ ঐ লোক কে দেখতে পাইনি। অনেক খোজাঁ ‍খুজি করেছি কিন্তু রিক্সার আর খোজ পাইনি আমার ভাড়ায় চালিত রিক্সাটি চুরি হয়ে গেল। যে মালিকে রিক্সা তাকে ঐ রিক্সা বাবদ ২০০০০/-(বিশ হাজার) টাকা কিস্তিতে দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে মাত্র ৬০০০০/=(ছয় হাজার) টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর একদিন পরেই আমার ফাইনাল ইয়ারের ফরম ফি জমা দিতে হবে সেখানেও লাগবে ৬৫০০/=(ছয় হাজার পাঁচশত)টাকা স্যার খুব চিন্তায় আছি। অর্নাস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র রিক্সা চালক পিপুলের কথা শুনে দু’চোখে অশ্রু চলে আসলো, মনের মাঝে অনুভতি জাগে উঠলো এই প্রতিভাবান পরিশ্রমী ছাত্রের কল্যানে একটা কিছু করবো। পিপুল কে আমি আশ্বাস্ত করলাম তোমার সব ব্যবস্থাই হবে আমাকে একটু সময় দাও, তবে তোমার হারানো রিক্সার টাকা এবং ফরম ফ্রির টাকা আমি দেবো। তোমার জন্য একজন ভাল মানুষের ঠিকানা খুজে বের করবো, সেখানে তোমার একটা চাকুরীর ব্যবস্থাও করবো। যাতে করে তোমার থাকা-খাওয়া ও পড়ালেখার ব্যবস্থা সহ তোমার পরিবারের দিকেও খেয়াল রাখাতে পারো। অবশেষে আমি প্রকৌশলী তানবীর মাহমুদ ভাইয়ের সাথে রিক্সা চালক পিপুলর কথা শেয়ার করি এবং একটা চাকুরী জন্য অনুরোধ জানাই । প্রকৌশলী তানবীর ভাই আমার কথায় সাড়া দিয়ে খুব দ্রুতার সহিত জানায় আগামীকাল থেকেই পিপলু আমার মোগল ট্রিমস্ ইন্ডাষ্ট্রিজ-এ ম্যানেজার পথে যোগদান করতে পারবে এবং তার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও আমি করবো। আমার মনের মাঝ আনন্দের স্রোত বইতে শুরু করলো একজন পরিশ্রমী প্রতিভান ছাত্রের কল্যানে একটা কিছু করতে পেরে। কারণ এই সমাজে অনেক বিত্তবানদের ছেলে-মেয়ে আছে যাদের অর্থ আছে কিন্তু পড়ালেখার মন-মানসিকতা নেই।

Axact

Axact

Vestibulum bibendum felis sit amet dolor auctor molestie. In dignissim eget nibh id dapibus. Fusce et suscipit orci. Aliquam sit amet urna lorem. Duis eu imperdiet nunc, non imperdiet libero.

Post A Comment:

0 comments: